অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয়করণ জরুরি।
জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ধ্বংস এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার এই সময়ে স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও দেশীয় জ্ঞানকে শক্তিশালী করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ উপলক্ষে ২১ জুন বিশ্ব স্থানীয়করণ দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে “জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জ্ঞানের প্রসার” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে।
দিবসটি উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, দেশীয় ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যভিত্তিক প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং কুইজ প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানে পরিবেশকর্মী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দেশীয় ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যভিত্তিক প্রদর্শনী। এতে দেশীয় ফলমূল ও শাকসবজি, ঔষধি গাছ, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত তৈজসপত্র ও পোশাক, এবং ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে দেশীয় পাখির সচিত্র পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় স্থানীয় সংস্কৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কুইজে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়করণ কেবল অর্থনীতির বিষয় নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর পথ। স্থানীয় কৃষি, দেশীয় পণ্য ও স্থানীয় বাজারকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা যেমন জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অবদান রাখতে পারি, তেমনি গড়ে তুলতে পারি একটি টেকসই, ন্যায়ভিত্তিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ. বিশেষ প্রতিনিধি মৃধা আজাদ বরিশাল