বুধবার ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ছাত্রীর গায়ে শিক্ষকের হাত তোলার অভিযোগে ওই শিক্ষককে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে ওই এলাকার জনগণ পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ছাত্রীর গায়ে শিক্ষকের হাত তোলার অভিযোগে ওই শিক্ষককে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে ওই এলাকার জনগণ পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়

ভাঙ্গায় ছাত্রীকে গায়ে হাত দেয়ার অভিযোগে শিক্ষককে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ
অবশেষে পুলিশ হেফাজতে শিক্ষক
মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা

ভাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে এক সহকারি শিক্ষককে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা।
বিচারের আশ্বাসে পুলিশ ওই মাস্টারকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।
মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা
সোমবার (২২জুন) সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের ভরিলহাট দাখিল মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষক ভরিলহাট দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আমির হোসেন, তার বাড়ি সালথা উপজেলায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ক্লাসের সময় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর গায়ে হাত দেয়ার অভিযোগে ওই ছাত্রী তার পরিবারকে জানায়, ওই ছাত্রীর আত্মীয়স্বজনেরা আজ সোমবার সকালে বিষয়টি বিচার দেওয়ার জন্য মাদ্রাসায় যায় ।
অপরিচিত আত্মীয়-স্বজনরা মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নিজামুদ্দিনকে কলার ধরে মারধর করে।
তখন মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্র ক্ষেপে ওদের ধাওয়া করে।
এ সময় ওই ছাত্রীর স্বজনেরা এলাকায় গুজব ছড়ায়, তাদের মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টাও করে আবার বিচার চাইতে গেলে, আমাদেরকে উল্টো মারধর করে, এই গুজব ছড়ালে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসাকে ঘেরাও করে।
অবস্থার বেগতিক দেখে মাদ্রাসার সভাপতি পুলিশকে খবর দেন।
পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
তখন নারীরা ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বের করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত জনগণের রোশনলে পড়ে পুলিশ। ঐ শিক্ষককে বিচারের আওতায় নিয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়ে অবশেষে মাস্টারকে আটক করেন থানা হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নিজামুদ্দিন জানান, তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ পেলে আমি আজ সকালে সুরাহা করার জন্য স্থানীয়দের ডাকি, ওই ছাত্রীর আত্মীয়স্বজন এসে আমার গায়ে হাত দিলে সবাই ক্ষিপ্ত হয়, ওই আত্মীয়-স্বজনরা উল্টোদিকে ষড়যন্ত্র করে এলাকার গুজব রটিয়ে মাদ্রাসার উপর আক্রমণ করেছে, এটা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র মূলক, ঐ শিক্ষকের নামে যে অভিযোগ তুলেছে (আমির হোসেন)গতকাল সে ক্লাসই করেন নাই।
অন্যদিকে মাদ্রাসার সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন জানান, তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর অভিভাবকরা অন্য এলাকা থেকে লোক ভাড়া করে এনে ভারপ্রাপ্ত সুপারের গায়ে হাত তুলে, তখন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র শিক্ষক সবাই ক্ষেপে যায়, যারা মাদ্রাসায় এই কান্ড ঘটিয়েছে তারা সবাই অন্য এলাকার।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সোলেমান জানান, আমির হোসেন নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মেয়ের গায়ে হাত দেওয়ায় কথা ছড়িয়ে পড়লে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এদিকে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর জানান, স্থানীয় বাসিন্দা মাদ্রাসা সুপারের গায়ে হাত দেওয়ায় গন্ডগোল ছড়িয়ে পড়ে, ছাত্রীর গায়ে হাত দিলে এর বিচার আছে কিন্তু প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত দেওয়াটা অপরাধ।
এ বিষয়ে ভাংগা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গত কয়েকদিন আগে ছুটি শেষে দেখা করতে বলেছিলেন শিক্ষক আমির হোসেন, মেয়েটি অপেক্ষা না করে বাড়িতে গিয়ে তার অভিভাবকদের জানায়, সেই বিষয়টি নিয়ে আজ সকালে আত্মীয় স্বজন নিয়ে মাদ্রাসায় বিচার চাইতে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত দেয় এ নিয়ে জনসাধারণদের জড়ো করে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
আমরা শিক্ষককে থানা হেফাজতে নিয়েছি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ প্রতিনিধি মৃধা আজাদ বরিশাল

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:৫৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দৈনিক বরিশালের আলো |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(106 ভিউ)

(85 ভিউ)

(75 ভিউ)

(72 ভিউ)

(69 ভিউ)

(69 ভিউ)

(66 ভিউ)

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মোস্তফা কামাল (জুয়েল)

ফোন নাম্বারঃ ০৪৩১-৬৪১৯১ মোবাইলঃ ০১৭১২৭৫৭৯০৩ ইমেইলঃ newsbarisaleralo@gmail.com