পালানোর রাস্তা নেই সত্য একদিন বের হয়ে আসেই “ওনি আবার দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন কিন্তু জনগণের হিসাব দিয়ে পালান”সিলেটের পুণ্যভূমি হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহ আলাইহের মাজারের কেরানি সামুন মাহমুদ খানের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য ফাঁস হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে মাজারের জমি আত্মসাত এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তোলার খবর প্রকাশ পাওয়ায় তিনি গোপনে দেশত্যাগের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সোমবার সকালে তিনি সিলেট শহরের বাসা থেকে বের হয়ে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
তার পক্ষে কিছু অসাধু দালাল সাংবাদিক সাফাই গাইছেন ও বিভিন্ন স্থানে তদবির করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, সামুন মাহমুদ খান বাল্যকাল থেকেই শাহজালাল রহমতুল্লাহ আলাইহির মাজারে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ সময় মাজারে থাকার সুবাদে তিনি মোতাওয়াল্লি পরিবারের আস্থা ও মন জয় করে নেন। অভিযোগ রয়েছে, এই আস্থাকে পুঁজি করে তিনি মাজারের বিপুল পরিমাণ জমি নিজের আয়ত্তে নিতে সক্ষম হন। বর্তমানে মাজারের ভেতরেই কেরানি সামুনের একটি বিলাসবহুল চার তলা বাড়ি রয়েছে। এছাড়া মাজারের প্রধান ফটকের সামনে সাফা রেস্ট হাউস নামে একটি বহুতল আবাসিক হোটেল রয়েছে তার। মাজারের বাইরেও তার সম্পদের পরিধি বিশাল। সিলেটের সাহেবের বাজার এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জমি এবং বাদামবাগিছা বাজারে ৩২ শতক জমির ওপর একটি স্থায়ী স্থাপনা রয়েছে তার।
শুধু সিলেটে-ই নয়, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় তার নিজ জন্মস্থান এবং রাজধানী ঢাকাতেও তার নামে বেনামে প্রচুর সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সোমবার মাজারের দানবাক্স খোলার পর সেখানে কেরানি সামুনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লেখা একাধিক চাঞ্চল্যকর দরখাস্ত বা অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। দানবাক্সে পাওয়া একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শাহজালাল মাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার বা ডিসির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট সহ সারা দেশে এমনকি বিদেশে অবস্থানরত লোকজন আপনার প্রশংসা করছেন।
সবচেয়ে বড় লুটপাটকারী হচ্ছে দরগার কেরানি সামুন মাহমুদ খান। অর্ধেক টাকাই সে মেরে দেয়। সে কেরানি হয়েও বড়াই করে বলে সে নাকি খাদিম, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা সামুন দরগার জায়গায় বাড়ি ও দোকানপাট করেছে। এই সমস্ত জায়গা উদ্ধার করা একান্ত প্রয়োজন। তাকে নিয়ে এখন চারদিকে আলোচনা হচ্ছে। সেই মূল হোতা। একজন সাধারণ কেরানি হয়েও সপ্তম শ্রেণী পাস সামুন মাহমুদ খান কিভাবে এত কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন, তা নিয়ে সিলেটের সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাজারের পবিত্রতা রক্ষা এবং এর সম্পত্তি রক্ষার্থে অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে তদন্ত শুরু করার জন্য স্থানীয় জনতা ও মাজারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সেজন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
#Shahjalal #Sylhet #BreakingNews #Bangladesh
#photography #photooftheday